সাংবাদিকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা চার্জশীট দিলেন সিআইডি কর্মকর্তা।
- Update Time : ০৬:২৯:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অগাস্ট ২০২৫
- / ৯৩৩ Time View


মো: রোকনুজ্জামান রকু (বিশেষ প্রতিনিধি)
ঘুষের টাকা না পেয়ে এক সাংবাদিকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা চার্জশীট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সিরাজগঞ্জের সিআইডির উপ-পরিদর্শক মো. আখের আলীর বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (২১ আগষ্ট) সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি/সম্পাদক বরাবর করা একটি লিখিত দরখাস্তে এমন অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের স্বজনেরা।
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার মুকুন্দগাঁতী পশ্চিমপাড়া গ্রামের সাংবাদিক জহুরুল ইসলামের ছেলে মো. রাফিন আহম্মেদ দ্বীপ, মোহাম্মদ আলীর ছেলে মো. মুস্তাকিন ও জাহিদুল ইসলাম নয়নের স্ত্রী মোছা. পারভীন আক্তার স্বাক্ষরিত লিখিত আবেদনে তিনটি পরিবারকে মামলার হয়রানি থেকে রক্ষার আবেদন জানানো হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর বেলকুচি উপজেলার দেলুয়া গ্রামের মানিক চাঁনের স্ত্রী ফাতেমা খাতুন তার ১৩ বছর বয়সী কন্যা মারুফা খাতুনকে ভারতে পাচারের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি মো. আব্দুল বাতেন খাঁ। এছাড়াও তার দুই বোনসহ আরও ৭ জনকে আসামি করা হয়। ৫, ৬ ও ৮ নং আসামি করা হয় যথাক্রমে মালয়েশিয়া প্রবাসী মোহাম্মদ আলী, স্থানীয় পত্রিকা যমুনা প্রবাহের স্টাফ রিপোর্টার ও জাতীয় দৈনিক যায়যায় দিন পত্রিকার বেলকুচি প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম ও তার ছোট ভাই জাহিদুল ইসলাম নয়নকে।
আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে বাদীর আনা অভিযোগের কোন সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যায় নাই মর্মে আদালতে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্তকারি পিবিআই কর্মকর্তা। বাদী প্রতিবেদনে অসন্তুস্ট হয়ে বাদী ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ নারাজি দাখিল করেন। বিচারক এবার মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
সিআইডি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েই তদন্তকারি কর্মকর্তা এস.আই মো. আখের আলী আসামিদের কাছে ঘুষ দাবী করতে থাকেন। দফায় দফায় আসামিদের ডেকে নেন। কিন্তু ঘুষের টাকা দিতে না পারায় তিনি মনগড়াভাবে আদালতের অভিযোগপত্র দাখিল করেন। যে অভিযোগপত্রে মামলার প্রধান আসামিকে বাদ দিয়ে বাকী সবাইকে অভিযুক্ত করা হয়।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয় ১নং আসামি বাদে নামিক সকল আসামি ভিকটিম মারুফাকে ঢাকায় এসপি সাহেবের বাসায় কাজ দেওয়ার কথা বলে ভারতে পাচার করেছে।
ভুক্তভোগীদের স্বজনেরা জানান, মামলার ৫ নম্বর আসামি মোহাম্মদ আলী দীর্ঘ ১০ বছর ধরে মালয়েশিয়া অবস্থান করছেন। ঘটনার তারিখে অর্থ্যাৎ ২০২৩ সালের ৫ মে তিনি মালয়েশিয়াতেই ছিলেন। অপরদিকে মামলার ৭ নম্বর আসামি সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম ঘটনার দিন বেলকুচি প্রেসক্লাবে প্রয়াত সাংবাদিক স্বপন চৌধুরীর ৮ম মৃত্যুবার্ষিকীর প্রস্তুতি সভায় উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদে সেটা উল্লেখ আছে। মামলার ৮ নম্বর আসামি মো. জাহিদুল ইসলাম নয়নও সেদিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।
কিন্তু তদন্তকারি কর্মকর্তা মো. আখের আলী শুধুমাত্র ঘুষের টাকা না পেয়ে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দিয়েছেন। অথচ মামলার প্রধান আসামিকেই তিনি বাদ দিয়েছেন। তারা বলেন, মিথ্যা অভিযোগপত্র দেওয়ায় ওয়ারেন্ট মাথায় নিয়ে সাংবাদিক জহুরুল ৮/৯ মাস ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। ফলে তার পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক আখের আলী বলেন, স্বাক্ষীরা যা বলে আমার যা তদন্তে আসে সেই অনুযায়ী রিপোর্ট কোর্টে জমা দেওয়া হয়েছে। এখন এটা কোর্টের এখতিয়ার। আপনার কোন কিছু বলার থাকলে স্বাক্ষী নিয়ে কোর্টে যান।
ঘুষের টাকা দাবী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা সম্পূর্ণ ডাহা মিথ্যা কথা, আমি স্বাক্ষীদের বয়ান অনুযায়ী আদালতে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছি।
