সাংবাদিকতার সেকাল- একাল।
- Update Time : ০৯:২৪:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৯৪ Time View


চৌহালী প্রতিনিধি।
যমুনা নদী বেষ্টিত তিন ভাগে বিভক্ত উপজেলা চৌহালী। নদী মার্তিক উপজেলার যমুনা নদীর পশ্চিম পাশে এনায়েতপুর থানা, পুর্ব পারে উপজেলা সদর মাঝ খানে বিশাল বিশাল চর, জনবসতি, আবাদি জমি, ছেট বড় অসংখ্য চর-ঢুবু চরের জনপদ চৌহালী।
এই জনপদে আলাউদ্দিন আহমেদ এর মত লেখক (১৮৫১-১৯১৬),মীর বেলায়েত হোসেন ফিরোজী (১৮৮৭)মত বিশ্ব পর্যটক, এম. শাহজাহান আলীর মত শিশু সাহিত্যিক, ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিন এর মতো গুণিজন ও বিশ্ব খ্যাত হাফেজ সালেহ আহমেদ তাকরূম এর মত খ্যাত নামা ও প্রবীন সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান এর জন্মভুমি এ জনপদ।
উত্তরে সিরাজগন্জের বেলকুচি উপজেলা,পশ্চিমে শাহজাদপুর উপজেলা অবস্থিত, দক্ষিণ পশ্চিমে পাবনার বেড়া উপজেলা, পুর্ব দক্ষিণে মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলা, পূর্বে টাঙ্গাইল সদর ও নাগরপুর উপজেলা।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় শেরশাহ তার রাজ্যে ভুমিকর আদায়ের লক্ষ্যে ১৫৪০-১৫৪৫ সালের মধ্যে একটি জরিপ দল ভুমি জরিপ ও মৌজার নাম করণের জন্য শাহজাদপুর পুর্ব অঞ্চলে প্রেরন করেন। চৌহালীতে জনশ্রুতি আছে তারা দেখতে পান চার জন কৃষক হালচাষ করছেন। হাল-চাষকৃত হাইলা ও হালের সংখ্যা চার সেই স্থানটির নাম করণ করা হয় চারহালী।
পরে বাংলা চার শব্দের ফারসি শব্দরুপ চৌযুক্ত হয়ে এখানে নাম করণ হয় চৌহালী। পুর্বে চৌহালী থানা এলাকা শাহজাদপুর থানায় অন্তভুক্ত ছিল। ১৯৭৮ সালে শাহজাদপুর উপজেলার পুর্ব অঞ্চলে চৌহালী থানা মালিপারা স্থাপন করা হয়।
আঠারো দশকের গোড়ার দিকে বা তারও আগে স্থল ইউনিয়নে স্থল পাকরাশী জমিদারের খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে তাদের উদ্যোগেই সিরাজগঞ্জের চৌহালী একটি প্রথম রাজস্ব থানা হিসেবে জন্ম নেয়।
শেরশাহ’র স্মৃতি- জমিদার বাড়ি ও নীলচাষ না থাকলেও জমিদার কর্তৃক শাসনামলে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
পাকরাশি ইন্সটিটিউট স্কুল এন্ড কলেজটি শাহজাদপুরের খুকনি এলাকায় আজও স্মৃতি হয়ে আছে। ১৮৫৫ সালে পাবনা জেলায় অন্তর্ভুক্ত ছিল ইতিহাসের পাতায় দেখা যায়।
বাংলাদেশ ঢেলে সাজানোর উদ্যোগে পরবর্তী সময়ে ১৯৭৬ সালে চৌহালিতে খাষকাউলিয়া মৌজায় (শিবির নামক স্থানে) একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপিত হয়। পুলিশ ক্যাম্পটিকে থানায় উন্নীত করার লক্ষে গুনিজনদের নেতৃত্বে চরের বিশাল জায়গাজুড়ে ১৯৮৪ সালে চৌহালী থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয়। ২১০বর্গ কিলোমিটার আয়াতে এ উপজেলায় বর্তমান ১ লক্ষ ২৪ হাজার ভোটার সহ প্রায় আড়াই লাখ মানুষের বসতি।
১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন ও ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এ জন পদের দু:সাহসিক বীর মুক্তিযোদ্ধারা ২৯ নভেম্বর পাক হানাদার মুক্ত করে স্বাধীন বাংলাদেশের লাল সবুজ হলুদ (মানচিত্র) পতাকা আকাশে উড়িয়ে দেয়। ২০২৪ এর গনঅভ্যুত্থান, ২০২২ সালে হিফজুল কুরআনে বিশ্ব জয়ী হাফেজ সালেহ আহম্মেদ তাকরীম চৌহালীর আরেক নক্ষত্র।
সাংবাদিকতার ইতিহাস খুব দীর্ঘ নয়। ১৯৯৫ সালে এ জনপদের প্রথম একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিনিধি-স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে সাংবাদিকতা যাত্রা শুরু করি। এর আগে চৌহালী উপজেলায় সাংবাদিকতার কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।
তখন পর্যন্ত চৌহালী উপজেলায় সাংবাদিকদের কোন পেশাগত সাংবাদিক সমিতি কিংবা প্রেস ক্লাব এর অস্তিত্ব ছিল না। আমার হাত ধরেই চৌহালীতে যাত্রা শুরু হয় সাংবাদিকতা ও প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠা। চৌহালী উপজেলা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহমুদুল হাসান। তিনি এখনও কাজ করছেন (সংবাদপত্র) গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে। জাতীয় দৈনিক দি ডেইলি সান(ইংরেজি পত্রিকা) ও জাতীয় দৈনিক জবাবদিহি, প্রতিদিনের কাগজ এর চৌহালী উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে।
মাটি ও মানুষের সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান, তিনি চৌহালী ও নাগরপুরে পরে থাকা ইতিহাস ও ভাঙ্গনে দিশেহারা মানুষের সুখ দু:খের কথা পত্রিকায় তুলে ধরে সম্মানিত হন ২০১৩ সালের শ্রেষ্ঠ সাংবাদিক হিসেবে। মাটি মানুষ সংস্থার উদ্যোগে বিচারপতি মমতাজউদ্দিন আহমেদ শ্রেষ্ঠ সাংবাদিক হিসেবে তার হাতে এই সম্মানের ক্রেষ্ট তুলে দেন। তিনি কোদালিয়া গ্রামে কৃষক পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন, তার পিতার নাম আজিমউদ্দিন, মাতা রহিমা ভানু। পিছিয়ে পড়া এই উপজেলায় বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় দৈনিকে ও ইনেকট্রনিকস মিডিয়ায় বর্তমানে কাজ করছেন প্রায় দের ডজন (সাংবাদিক) গণমাধ্যমকর্মী। তিনি নাগরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও রিপোর্টাস ইউনিটির সহ-সভাপতি এবং এনায়েতপুর চৌহালী প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও চৌহালী ফাউন্ডেশন এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করে চলছেন।


