1. shahalom.socio@gmail.com : admin :
  2. updatebangladesh0@gmail.com : আপডেট বাংলাদেশ : আপডেট বাংলাদেশ
বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ০১:৪৫ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, মনোনয়ন দাখিলের শেষ তারিখ ১ ডিসেম্বর, মনোনয়ন বাছাই ৩ ডিসেম্বর | আপডেট বাংলাদেশ ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজা যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে | আপডেট বাংলাদেশ সকল ধর্মের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক | আপডেট বাংলাদেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে ৯ ব্যাংক অফিসার পদে আবেদনে নতুন নিয়মে বিপাকে হাজারো চাকুরীপ্রত্যাশীরা | আপডেট বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদে ভাঙ্গন,সাবেক যুগ্ম আহবায়ক এ পি এম সুহেলের নেতৃত্বে নতুন কমিটি গঠন | আপডেট বাংলাদেশ কুমিল্লায় ধর্ষনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন, সন্ধায় মশাল মিছিল | আপডেট বাংলাদেশ রাঙ্গাবালীতে বহুল প্রতীক্ষিত বিদ্যুৎ সংযোগ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন | আপডেট বাংলাদেশ বৈদ্যুতিক খুঁটি স্হাপনের কাজ শুরু, আনন্দিত রাঙ্গাবালির চরমোন্তাজবাসী | আপডেট বাংলাদেশ মুজিববর্ষ উপলক্ষে বাকেরগঞ্জ উপজেলায় জেলা প্রশাসক এস, এম, অজিয়র রহমান এর দিনভর কর্মসূচি | আপডেট বাংলাদেশ কুমিল্লায় দি ইনভিন্সিবল’র ২য় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত | আপডেট বাংলাদেশ

ফেসবুক থেকে নেয়া

ঝালকাঠিতে বালুদস্যুদের দৌরাত্বে হুমকির মুখে পরিবেশ ও নদীপাড়ের জনজীবন | আপডেট বাংলাদেশ

  • আপডেট করা হয়েছে শনিবার, ২০ জুন, ২০২০
  • ৬৫ বার পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্টঃ
ঝালকাঠি, নলছিটি, রাজাপুর, কাঠালিয়া নদীতে
অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে সংবাদমাধ্যমে অনেক খবর দেখা যায়। অবৈধ বালু উত্তোলন ক্ষতিকর-এ ব্যাপারে মোটামুটি সবাই একমত। কিন্তু তা কতটা ক্ষতিকর বা এর প্রভাব আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশে কতটা পড়ছে, তা নিয়ে আরও গুরুতর ভাবনা জরুরি হয়ে পড়েছে।
পরিকল্পনাহীন ও যত্রতত্র বালু লুটের কারণে নদীর বাঁধ নষ্ট, নদীপাড়ের মাটি আলগা হয়ে যাওয়া, নদীর ওপর ব্রিজ বা সেতুর জন্য ঝুঁকি তৈরি হওয়া, ফসলি জমির ক্ষতি হওয়া, ঘরবাড়ি-রাস্তা ভেঙে যাওয়া, নদীর বাঁক পরিবর্তন হওয়া, জীববৈচিত্র্য ও মাছের স্বাভাবিক জীবনচক্রে ব্যাঘাত ঘটা, নদীর ভারসাম্য নষ্ট হওয়াসহ প্রাকৃতিক পরিবেশ-প্রতিবেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। উন্নত ও উন্নততর প্রায় সব দেশেই নদী ও পরিবেশের ক্ষতি না করে পরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করা হয়ে থাকে। আর আমাদের দেশে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই ক্ষমতা ও প্রভাবের জোরে বালু লুট করা হয়! বালু উত্তোলনে সময়, স্থান, আয়তন, প্রাযুক্তিক ব্যবস্থা, সংশ্লিষ্ট এলাকার জীববৈচিত্র্য বিবেচনায় নিয়ে ও সর্বোপরি সংশ্লিষ্ট এলাকার এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট এসেসমেন্ট (ইআইএ) করার কথা থাকলেও আমাদের দেশে এ সব বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয় না বললেই চলে!

নগরায়ণ ও শিল্পায়নের ফলে দেশে বালুর চাহিদা বেড়েই চলেছে। এখন নিচু জায়গা ভরাটে মাটির চেয়ে বালুর ব্যবহার বেশি হয়ে থাকে। অবৈধ ও পরিকল্পনাহীনভাবে যত্রতত্র যেনতেনভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদ-নদী ও পরিবেশের ভারসাম্য যেমন নষ্ট হচ্ছে তেমনি সরকার রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। কেননা বেশিরভাগ নদ-নদীতে ইজারা ছাড়াই বালু তোলা হচ্ছে। আবার ইজারা নিলেও এক জায়গার লিজ নিয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে বালু তোলা হচ্ছে। ইজারার নানা শর্ত ভেঙে ড্রেজার দিয়ে অনিয়ন্ত্রিত হারে বালু লুট করা হচ্ছে। ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০’ এ বলা হয়েছে, পাম্প বা ড্রেজিং বা অন্য কোনো মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না। এ ছাড়া সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারাজ, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা অথবা আবাসিক এলাকা থেকে সর্বনিন্ম এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ। কিন্তু বাস্তবে এ সব আইনের প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন একেবারেই নেই! ফলে বাড়ছে বালু লুটকারীর সংখ্যা।

নদ-নদী জাতীয় সম্পদ। কোনো প্রভাবশালী চক্র যদি নিজের বা নিজেদের স্বার্থে নদ-নদীকে ব্যবহার করে তা মারাত্মক অপরাধের শামিল। এই জাতীয় সম্পদ রক্ষা করা সবার নৈতিক দায়িত্ব। জলবায়ু পরিবর্তনেও বালু উত্তোলনের প্রভাব রয়েছে। পরিকল্পনাহীন বালু উত্তোলনে পানিদূষণ যেমন ঘটছে তেমনি বালু পরিবহনে সৃষ্ট বায়ুদূষণে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়িয়ে দিচ্ছে। যত্রতত্র ও যেনতেনভাবে বালু উত্তোলনের কারণে পরিবেশের সামগ্রিক বাস্তুসংস্থানের ওপর ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এক কথায় বালু লুটের ফলে প্রাকৃতিক ভূচিত্র নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি প্রাকৃতিক পরিবেশ বিপন্ন হচ্ছে। অবৈধ ও পরিকল্পনাহীন বালু লুটের ফলে একদিকে নদ-নদীর পাড় ভাঙছে, অন্যদিকে নদীভাঙন রোধে সরকার থেকে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে। বিদ্যমান আইনের প্রয়োগ ও সঠিক তদারকি করা হলে এই অর্থনাশী (নদীভাঙনে রোধে সরকারের কোটি কোটি টাকা খরচ হচ্ছে) ও নদী বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড রোধ করা সম্ভব হবে। নদ-নদীর ভারসাম্য রক্ষা ও সামগ্রিক বাস্তুসংস্থান টিকিয়ে রাখতে নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হবে।

বালু উত্তোলনের ফলে একদল মানুষ প্রাকৃতিক সম্পদ বিনষ্ট করে সম্পদের পাহাড় বানাচ্ছেন, অন্যদিকে নদীপাড়ের মানুষ নদীভাঙনে আশ্রয়হীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অবৈধভাবে বালু লুট ও বিপণন কারবারের সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত। লুটকারীরা তাদের প্রভাব ও জনপ্রতিনিধিদের পরোক্ষ সমর্থনে নদী ও প্রতিবেশ বিধ্বংসী কার্যকলাপ করে পার পেয়ে যাচ্ছেন। তাই সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ও পরিবেশ-প্রতিবেশের ক্ষতি করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। প্রচলিত আইনে বালু লুটকারীদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতহীনভাবে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

কমেন্ট করুন

আরো সংবাদ পড়ুন